টোকিও: মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও উদীয়মান ব্যবসাগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে জাপানের টোকিওতে ‘ব্যাংক রাকইয়াত বিজম্যাচ: মেক মালয়েশিয়ান বিজনেসেস গ্রেট’ শীর্ষক একটি বিশেষ ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ব্যাংক রাকইয়াত।
নিক্কেই ফোরাম অব এশিয়া ২০২৬-এর সঙ্গে সমন্বয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মালয়েশিয়ার সাতটি কোম্পানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জাপান ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিল্পখাতের নেতা এবং কৌশলগত অংশীদাররা অংশ নেন। এর লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পথ উন্মুক্ত করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim, উদ্যোক্তা ও সমবায় উন্নয়নমন্ত্রী Steven Sim Chee Keong, ব্যাংক রাকইয়াতের চেয়ারম্যান Mohd Irwan Mohd Mubarak এবং ব্যাংক রাকইয়াত গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Ahmad Shahril Mohd Shariff।
স্টিভেন সিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘হেবাতকান পেরনিয়াগান মালয়েশিয়া’ (মেক মালয়েশিয়ান বিজনেসেস গ্রেট) উদ্যোগটি দেশের ব্যবসাগুলোকে স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সরকারি লক্ষ্যকে এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই। তবে তাদের প্রয়োজন সঠিক প্ল্যাটফর্ম, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার।
স্টিভেন সিম জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) শুধু স্থানীয় সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবন ও যৌথ উন্নয়নের সক্ষম কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে ব্যাংক রাকইয়াত চেয়ারম্যান মোহদ ইরওয়ান মোহদ মুবারক বলেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্য নিরাপত্তা, জলজ চাষ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, পাম অয়েল, খুচরা ব্যবসা ও উৎপাদন শিল্পের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতের প্রতিনিধিত্ব করছে।
তিনি বলেন, এসব খাত শুধু মালয়েশিয়ার নয়, পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোহদ ইরওয়ান আরও বলেন, ব্যাংক রাকইয়াত শুধু অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যবসায়িক পরামর্শ, বাজার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে ব্যবসাগুলোকে শুধু স্থিতিশীল নয়, উদ্ভাবনী ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যাংক রাকইয়াতের বিজম্যাচ উদ্যোগটি সরকারের উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ব্যবসার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি ‘হেবাতকান পেরনিয়াগান মালয়েশিয়া’ কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।