ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলাম মাশরুম চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে তিনি মাসে আয় করছেন প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন এই লাভজনক কৃষি পণ্য চাষে।
জানা গেছে, আট বছর আগে মাশরুম চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১০-১২টি স্পন (মাশরুম বীজ) দিয়ে শুরু করেছিলেন জহিরুল ইসলাম। প্রথম পর্যায়ে ছোট পরিসরে উৎপাদন করে সাভারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে বিক্রি করতেন। সেখান থেকে লাভজনক ফলাফল পেয়ে ধীরে ধীরে চাষ সম্প্রসারণ করেন।
মাশরুমের স্পন তৈরি করা হয় কাঠের গুঁড়া, গমের ভূষি, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও পানি দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে। বর্তমানে মাশরুম বিক্রির পাশাপাশি জহিরুল ইসলাম স্পন বিক্রিও করছেন, যা থেকে তার আয়ও বেড়েছে। জহিরুলের সফলতা দেখে তার দেখানো পথে হাঁটছেন স্থানীয় আরো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা। ইতোমধ্যে ধামরাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩০ জন নতুন উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।
নতুন উদ্যোক্তা সুমন খান বলেন, প্রথমে জহিরুল ভাইয়ের কাছ থেকে খাওয়ার উদ্দেশ্যে মাশরুম নিতে যাই। পরে তার চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি নিজেই স্পন নিয়ে চাষ শুরু করি। এখন আমি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি।
আরেক তরুণ উদ্যোক্তা জানান, সখের বসে কয়েকটি স্পন নিয়ে চাষ শুরু করেছিলেন। পরে বাড়ির পরিবারের সহযোগিতায় মাশরুম চাষ বাড়ান এবং বর্তমানে তার মাসিক আয় ২০-২৫ হাজার টাকা।
ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান বলেন, ‘অল্প পুঁজিতে মাশরুম চাষ করে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে তাদের আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছি। মাশরুমের উচ্চ বাজারমূল্য ও কম পরিশ্রমে অধিক ফলনের কারণে এটি ধামরাইয়ে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে গড়ে উঠছে। এর মাধ্যমে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বদলাচ্ছে এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র।