শিরোনাম :
ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের কোটা নির্ভরতা ছেড়ে মালয় ও বুমিপুত্রদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু

১৫৪ ফিলিস্তিনি বন্দীকে নির্বাসনে পাঠালো ইসরায়েল

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

 

ইসরায়েলের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পাওয়া বহু ফিলিস্তিনি বন্দীর পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস জানায়, মুক্তি পাওয়া অন্তত ১৫৪ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল জোর করে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আল-জাজিরা জানায়, এই বন্দীরা ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একটি বড় দলের অংশ। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন যুদ্ধের আগেই বন্দী ছিলেন এবং যুদ্ধ চলাকালে গাজা থেকে আটক হয়েছিল প্রায় ১,৭০০ জন। জাতিসংঘের মতে, তাদের অনেককেই “জোরপূর্বক গুম” করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ২০ জন ইসরায়েলি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।

এখনও স্পষ্ট নয়, নির্বাসিত ফিলিস্তিনিদের কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে জানুয়ারির আগের এক বন্দিবিনিময়ে ইসরায়েল কয়েক ডজন বন্দীকে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও তুরস্কে পাঠিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জোরপূর্বক নির্বাসন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের জননীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামার কারমাউত বলেন,

“এটি নিঃসন্দেহে অবৈধ। তারা ফিলিস্তিনের নাগরিক—অন্য কোনো দেশের নয়। তাদের ছোট কারাগার থেকে বের করে বড় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, যা অমানবিক।”

রামাল্লায় আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বন্দী মুহাম্মদ ইমরানের পরিবার জানায়, তারা ধারণা করেছিল মুহাম্মদ বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সোমবার জানা যায়, ১৩টি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মুহাম্মদকেও নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর ভাই রাঈদ ইমরান বলেন,

“আজকের খবর আমাদের জন্য আঘাতের মতো। তবু আমরা আশা রাখছি, কোনোভাবে দেখা হবে।”

গাজার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। ফলে নির্বাসিতদের পরিবারের অনেকেই হয়তো আর কখনও প্রিয়জনদের দেখা পাবেন না। সাংবাদিক নিদা ইব্রাহিম বলেন,

“অনেক পরিবার হয়তো আজ থেকে তাদের আপনজনকে চিরতরে হারাচ্ছে।”

অধ্যাপক কারমাউতের মতে, এই নির্বাসনের মাধ্যমে ইসরায়েল হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনকে প্রতীকী বিজয় থেকে বঞ্চিত করতে চায় এবং মুক্ত বন্দীদের রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করে দিতে চায়।

তিনি যোগ করেন, “এটি জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি ও পারিবারিক শাস্তি। একদিকে ইসরায়েল নিজেদের বন্দীদের ফিরিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের নির্বাসনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এটি দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামির চরম উদাহরণ।”

সূত্র: আল-জাজিরা, ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »