রেজুয়ানা বিনতে রেজা। কুয়ালালামপুর ।
“হেমন্তে গিয়েছে মাঠে ধান কাটা শেষ,
শীত এল গায়ে দিল কাঁপুনি বেশ।”
— বাংলা কবিতা থেকে
বাংলার ছয় ঋতুর এক সোনালি সন্ধিক্ষণ হলো হেমন্তের শেষ আর শীতের শুরু। প্রকৃতি তখন যেন নিঃশব্দে রঙ বদলায়। ধানের খেত থেকে ভেসে আসে সোনালি সুবাস, মাঠে পড়ে থাকে খড়ের গাদ, আকাশে উড়ে বেড়ায় পাখির দল। হেমন্তের প্রখর রোদ মোলায়েম হয়ে আসে, আর গাছের পাতায় জেগে ওঠে হালকা কাঁপুনি।
গ্রামবাংলায় তখন নতুন ধান ঘরে তোলা শেষ, ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্নের উৎসব। কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি, চুলায় জ্বলে নতুন ভাতের গন্ধ। ঠিক তখনই উত্তর দিক থেকে বয়ে আসে ঠান্ডা বাতাস—বলে দেয়, “শীত আসছে।” সকালের শিশিরে ঘাস ভিজে যায়, কুয়াশায় ঢাকা পড়ে নদীর বুকে ভোরের আলো।
হেমন্তের শেষ আর শীতের শুরু—এই মিলনমুহূর্ত যেন কবিতার মতো। প্রকৃতি ধীরে ধীরে ক্লান্ত শরীর মেলে বিশ্রাম নেয়, যেন আসন্ন বসন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঠে নিস্তব্ধতা, গাছে পাতাঝরা, আকাশে রোদ কমে এসেছে—তবু এর মধ্যেই এক ধরনের শান্ত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।
শীতের শুরু মানেই কুয়াশার পর্দা, আগুন পোহানো সন্ধ্যা, পিঠা-পায়েসের গন্ধ আর উলের উষ্ণতায় ভরা দিনরাত্রি। হেমন্তের সোনালি হাসির পর শীত আসে নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে, যেন প্রকৃতি নিজের কোল জুড়ে নেয় বিশ্রামের পরশ।
শীতের শুরুর এই সময়টা প্রকৃতির এক মিষ্টি রূপ। সকালের শিশিরভেজা ঘাসে পা রাখলে মনে হয় যেন রূপকথার কোনো রাজ্যে হাঁটছি। শিশুরা তখন মাঠে দৌড়ায়, বড়রা খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়। গ্রামে শুরু হয় পিঠা-পায়েসের মৌসুম, শহরে আসে উৎসবের আমেজ।

এভাবেই সময়ের বুকে এক ঋতুর বিদায় আর আরেক ঋতুর আগমন ঘটে। হেমন্তের শেষ মানে কেবল ঋতুর পালাবদল নয়, এটি প্রকৃতির এক মৃদু নিশ্বাস—যার পরেই শুরু হয় শীতের নীরব কবিতা।