নরওয়ের নোবেল শান্তি প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াতনে ফ্রিডনেস বলেছেন, সংবাদমাধ্যম ও জনচাপের প্রভাব নোবেল পুরস্কার বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বিষয় নয়—এমন প্রতিক্রিয়া তিনি দেন যখন সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নোবেল শান্তির দাবির চাপ কি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে কি না।
ফ্রিডনেস স্পষ্ট করেছেন, “নোবেল শান্তি পুরস্কার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের চাপ একটি অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা—আমরা এমন হাজার হাজার চিঠি ও অনুরোধ পাই যেখানে কেউ দাবি করে কেন তিনি শান্তিতে নোবেল পেতে পারবেন। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত আলফ্রেড নোবেলের الإرি এবং তাঁর নীতি ও কাজকে ভিত্তি করে নেওয়া হয়।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের নামও আলোচনায় ছিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—যেসব রাষ্ট্রনায়ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে শান্তি প্রচেষ্টায় যুক্ত, তাদের নামও কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে ফ্রিডনেস বলেন,
“প্রতি বছরই আমরা ডনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সমর্থন বা দাবির আওতায় পাই। কিন্তু আমাদের কাজ হলো বাহ্যিক প্রভাব থেকে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখা।”
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, নিউজমিডিয়া চাপ ছাড়াও নোবেল কমিটির সামনে থাকে বিরাট দায়িত্ব — সিদ্ধান্ত নিতে হলে গবেষণা, প্রার্থীদের কার্যক্রম ও নীতির সমন্বিত বিশ্লেষণ নিশ্চিত করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় আসে, নোবেল কমিটির ওপর নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চাপ বাড়ে।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও গণমাধ্যম প্রচার প্রার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে — কিন্তু সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সামনে নিয়ে আসে। ফ্রিডনেসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের চাপ নতুন নয় — অতীতেও নোবেল কমিটি একইভাবে বিভিন্ন দাবির মুখোমুখি হয়েছে। মাচাদোর নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় থাকা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছে — যার ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও নোবেল প্রথার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।