মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ে দোকান-অফিসের জায়গা অবৈধভাবে ভাগ করে রোহিঙ্গাসহ বিদেশিদের ভাড়া দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় জালান পাসার বারুর আশপাশে নয়টি দোকান-অফিসে অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার পরিচালিত ‘অপস সারাং বুরুং’ অভিযানে দেখা যায়, ২০ থেকে ৭৫ ফুট আয়তনের একেকটি দোকান-অফিসকে ভাগ করে সর্বোচ্চ আটটি ছোট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এসব কক্ষে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হচ্ছিল।
কক্ষগুলোর সামনে ও পেছনে লোহার গ্রিল বসানো ছিল। ভবনগুলোর একমাত্র জরুরি বের হওয়ার পথ ছিল একটি সিঁড়ি। কিন্তু সেখানেও গ্রিল থাকায় আগুন লাগলে ভেতরে থাকা মানুষদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ ছিল না।
সেলাঙ্গর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ রাজালি ওয়ান ইসমাইল বলেন, অনুমোদন ছাড়া ভবন পরিবর্তন করে অতিরিক্ত মানুষ রাখায় ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগুন লাগলে এসব ভবন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট একই ধরনের একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এক বাবা ও তাঁর সন্তান মারা যান। ঘন ধোঁয়ায় বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাথরুমে আটকা পড়েছিলেন।
অভিযানে ভবনমালিকদের অবৈধ কাঠামো সরানোর নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে এসব কাঠামো সরাতে হবে। তবে সিঁড়ির পথ বন্ধ থাকলে আরও কম সময় দেওয়া হতে পারে।
নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। গুরুতর অগ্নিঝুঁকি থাকলে ভবন বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিতে পারে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে সেলাঙ্গর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ, ক্লাং রয়্যাল সিটি কাউন্সিল ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ অংশ নেয়।