তেহরান: সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরানের ভেতরে বিভেদ ও অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, সামরিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের জাতীয় ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের পার্লামেন্ট ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “শত্রুপক্ষ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রচারণা ও অবরোধের পর এখন সামাজিক বিভাজন ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে সামরিক ব্যর্থতার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছে।”
তিনি ঈদুল আজহা এবং পার্লামেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানি জনগণ ও সংসদ সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ আইনপ্রণেতাদের দেশের উন্নয়নে ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পার্লামেন্টকে “জাতির সারাংশ” এবং “ধর্মীয় গণতন্ত্রের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ৪০ দিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ইরানি জনগণের বিশ্বাস, আশা ও প্রতিরোধের শক্তিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত ৮ এপ্রিল ইরানের পাল্টা হামলার পর থেমে যায়।
তিনি সংসদ সদস্যদের দেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট সমাধান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো, বিজ্ঞান ও শিল্পের উন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, জনগণের সমস্যা সমাধান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা তৈরির লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে “প্রতিরোধ অর্থনীতি” গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি কমানো, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়ন পরিকল্পনা সংশোধন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফাঁপা রাজনৈতিক বিরোধ ও সামাজিক বিভাজন উসকে দেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি জাতীয় ঐক্যকে ইরানের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ঐক্যই তথাকথিত “গ্রেট স্যাটান” অর্থাৎ আমেরিয়াকে -এর বিরুদ্ধে বিজয়ের অন্যতম কারণ।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ইসলাম, ইসলামী বিপ্লব এবং ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদায় বিশ্বাসী সবাইকে দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হতে হবে এবং মতপার্থক্যকে কখনো বিভেদে রূপ নিতে দেওয়া যাবে না।