সিদ্দিকুর রহমান সুমন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে সন্দেহ এবং সংকট দুটোই দেখা দেবে, তাই জামায়াত নির্বাচনের পক্ষে । বিগত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের ভোট দিতে পারেনি । তাই সবার আগ্রহ রয়েছে এই নির্বাচন নিয়ে ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গনভোটের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি জানান একই দিনে দুটি নিবার্চন হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে । অতীতে ৩টা গণভোট হয়েছে, সর্বোচ্চ ২৬ দিনের এবং সর্বনিম্ন ১৮ দিনের নোটিশে । জামায়াতের পক্ষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে ।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়ে আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন ২৭টি উন্নত দেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে । ক্ষমতার ভারসাম্যে রক্ষায় এটা গুরুত্বপূর্ণ । জাতির কল্যাণে দাবী দেওয়া হয়েছে । দাবীগুলো যৌক্তিক প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি মেনে না নেওয়া হয় তাহলে জামায়াত নির্বাচনে যাবে কিনা তা চিন্তা করবে ।
পিআর পদ্ধতি বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন যিনি পিআর বুঝেন না তিনি এর ভালো মন্দ বলতে পারেন না । আগে জানতে হবে তারপর মন্তব্য করতে হবে ।রাজনীতিবিদদের আরও সচেতন হয়ে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বলা উচিত ।
বুধবার নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন ।
প্রতিবেশী হিসেবে ভারতকে “রেসপেক্ট” করতে চান মন্তব্য করে তিনি জানান ঠিক তেমনি বাংলাদেশও সেই “রেসপেক্ট” আশা করে । চুক্তি বাতিলের বিষয়ে ডাঃ শফিকুর রহমান জানান, শুধু ভারত নয় বিশ্বের অনেক দেশের সাথেই চুক্তি হয়েছে । যে চুক্তিগুলো যৌক্তিক, যা জাতির জন্য কল্যান হবে সেগুলোর প্রতি সমর্থন থাকবে । কিন্তু যে চুক্তি দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে তাহলে ঐ দেশের সাথে চিঠি আদানপ্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে । কোনো সংলাপ কিংবা আলোচনা ছাড়াই যদি চুক্তি বাতিল করা হয় তাহলে অন্য পক্ষ যে কোনো আদালতেও যেতে পারে । শুধু তাই নয় সরকার বদল হলে চুক্তি বদল হয় এই আশংকায় বিদেশী বিনোয়োগের উপরও এর প্রভাব পড়বে ।
১৯৭১ সালের ভুমিকার বিষয়ে তিনি বলেন ঐ সময়ে জামায়াতের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা ভালো জানেন ।তারপরও জামায়াতের মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন । যেখানে ৯৯টা ভালো কাজের সাথে ১টা ভুল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে । তাই ব্যক্তিগত এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দ্বারা যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোন তাহলে সবকিছুর জন্য ক্ষমা চান ডা. শফিক ।
সেনাবাহিনীর সদস্যের বিচারের প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন শুধু সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য নয়, যে কেউ অপরাধ করলে তার স্বচ্ছ ও ন্যায় সঙ্গত বিচার হোক । যেখানে ভিকটিম পাবে তাদের ন্যায বিচার ।
এনসিপির নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতের আমীর বলেন তারা আমাদের ছোট ভাই-বোন। আন্দোলনে তাদের ভূমিকা রয়েছে । অভিমান করে কিছু বললে কঠোর হওয়া উচিত হবে না । অভিজ্ঞতা এবং বয়সের কারনে তাদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত ।
শুধু রেমিট্যান্স নয় দেশের উন্নয়নে প্রবাসী দক্ষ জনশক্তিকে দেশে ফিরিয়ে কাজ লাগাতে পারলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।
বিএনপির সাথে বিগত সময়ে জোটবদ্ধ আন্দোলনের প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন আমরা ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল । মতাদর্শ ভিন্ন । তাই অনেক ক্ষেত্রে মতের পার্থক্য থাকে । কিন্তু জামায়াত সব পক্ষকেই সম্মান করে এমনকি যিনি সমালোচনা করেন তাকেও ।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আফগানিস্তান-পাকিস্তান কিংবা লেবানন নন, বাংলাদেশ বাংলাদেশই থাকে । যেখানে থাকবে না দল-ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তি । বৈষম্য থাকবে না, প্রত্যেক নাগরিক পাবে সমান অধিকার ।