কুয়ালালামপুর, ১০ জুলাই (ভয়েস অফ মালয়েশিয়া (PBN NEWS): মালয়েশিয়া ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে একমত হয়েছে—বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্র, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ইস্যুতে। বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহামাদ হাসান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আলোচনা হয়।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ৫৮তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন (AMM) এবং সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোর ফাঁকে, যা মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালের আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপের আওতায় “অন্তর্ভুক্তি ও স্থায়িত্ব” প্রতিপাদ্যে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দাতুক সেরি মোহামাদ জানান, মালয়েশিয়া রাশিয়ায় কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) প্রোগ্রামে মালয়েশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি ভর্তি সুযোগ চেয়েছে।
“আমি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আসন সংরক্ষণের অনুরোধ করেছি এবং রাশিয়া তাতে সম্মত হয়েছে,” বলেন তিনি।
বৈঠকে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল (SEANWFZ) চুক্তিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়।
“রাশিয়া SEANWFZ চুক্তিতে স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে দলিলপত্র নিয়ে আলোচনা হবে,” বলেন মোহামাদ।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বর্তমানে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিতব্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসিয়ান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন—এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-রাশিয়া পর-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক, ১৫তম পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক, এবং ৩২তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (ARF)।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাভরভ ও মোহামাদ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আসিয়ান-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ ও সমন্বিত কৌশল নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে লাভরভ সাংবাদিকদের বলেন, “It was a nice meeting” (এটি ছিল একটি চমৎকার বৈঠক)।
রাশিয়া ১৯৯১ সালে আসিয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ১৯৯৬ সালে পূর্ণাঙ্গ সংলাপ অংশীদার হয়। ২০১৮ সালে এই সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে।
বর্তমানে মালয়েশিয়া আসিয়ানের চেয়ারম্যান হওয়ায়, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান এই সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।