মালয়েশিয়া–থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। দীর্ঘদিনের গোপন গোয়েন্দা নজরদারির পর গভীর জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ও গোপন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারের শিকার ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
একই অভিযানে মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি পাচারকারীদের হয়ে বাড়িটির দেখভাল ও ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে ছিল।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের অঘোষিত পথ বা ‘চোরাপথ’ ব্যবহার করে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে দেশে প্রবেশের পর প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ করলেও তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে দেরি হলে বা বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হতো এবং নির্যাতন করা হতো।
পরিত্যক্ত ওই বাড়িটিকে পাচারকারীরা অস্থায়ী বন্দিশালা ও ট্রানজিট হাউস হিসেবে ব্যবহার করত, যেখানে ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতো’ জাকারিয়া বিন শাবান জানান, এই মানবপাচার সিন্ডিকেটকে ধরতে দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
একাধিক উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং চলাচলের ধরন বিশ্লেষণের পরই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র, যার নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া জুড়ে বিস্তৃত। চক্রটির সঙ্গে জড়িত দালাল, আশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মানবপাচার ইস্যুতে মালয়েশিয়া কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানোর পথে কতটা ভয়ংকর ফাঁদ পেতে বসে আছে মানবপাচার চক্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি