শিরোনাম :
ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের কোটা নির্ভরতা ছেড়ে মালয় ও বুমিপুত্রদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তে লাইসেন্স চূড়ান্ত, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সফর ঘিরে ঢাকা–কুয়ালালামপুর সম্পর্কে উত্তেজনা

ওয়াহিদ সোহান: বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্স চূড়ান্ত হওয়ার খবরের মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া আসছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং তার প্রতিনিধি দল। এই সফরকে ঘিরে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্যতা ও সহযোগিতা জোরদারের অংশ হলেও এর পেছনে রয়েছে শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত জটিল ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো।

বিশেষ করে ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসায় আসা বহু বাংলাদেশি কর্মী দালাল চক্র ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে নির্ধারিত কোম্পানিতে কাজ না পেয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। এদের অনেকেই পরবর্তীতে অবৈধ কর্মীর তকমা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের কিছু সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু নামসর্বস্ব কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসাধু সিন্ডিকেটের যোগসাজশের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

কিছু শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও তারা সময়মতো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগ নিয়ে হাইকমিশনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে যদি আবারও সিন্ডিকেটনির্ভর পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হয় এবং যথাযথ সরকারি তদারকি নিশ্চিত না করা হয়, তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান বের করতে না পারা বাংলাদেশ মিশন এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরটি দুই দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যেখানে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »