ভারতের বিহার রাজ্যে আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর দুই ধাপে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। নির্বাচনের আগে সীমান্তবর্তী মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
বিশেষ করে কিষানগঞ্জ ও কাটিহার জেলার শেরশাহবাদি মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ—বিভিন্ন বিজেপি নেতার বক্তব্যে তাদের “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সম্প্রদায়ের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি বিজেপির নেতা জিতেনরাম মাঝি এক নির্বাচনী সমাবেশে দাবি করেন, “শেরশাহবাদি মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছে।”
এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান স্থানীয় শিক্ষক মুখতার আলম (ছদ্মনাম)। পরে তিনি নিজেই ট্রলের শিকার হন—“তোমরাই তো বাংলাদেশি”—এই মন্তব্যে।
তিনি বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষ শত শত বছর ধরে এই মাটিতে আছে। এখন আমাদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।”
এদিকে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের “স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন” (SIR) প্রক্রিয়ার সময় মুসলিম ভোটারদের বৈষম্যের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। কিষানগঞ্জ ও কাটিহারের বেশ কয়েকটি এলাকায় বহু মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এক স্থানীয় সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশই মুসলমান, যাদের “নাগরিকত্ব প্রমাণে অতিরিক্ত কাগজপত্র” দিতে বলা হয়েছে।
ধর্মীয় উত্তেজনা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে।এক সময় যেখানে হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করত, এখন মুসলিম পরিচালিত স্কুলে হিন্দু ছাত্রের সংখ্যা প্রায় শূন্য।
এক শিক্ষক বলেন, “আগে উৎসবে আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতাম। এখন মনে হয়, আমাদের আলাদা করে ফেলা হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” তকমা ব্যবহার করে মুসলমানদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন ঘিরে ভয় ও বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে।
তারা বলছেন, “ধর্ম ও পরিচয়ের রাজনীতি” এখন বিহারের নির্বাচনী বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে—যেখানে একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের পরিচয়ের কারণে।