শিরোনাম :
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis ইন্দোনেশিয়ায় মালয়েশীয় সহকারী পাইলট গ্রেফতার: দেশজুড়ে অভিযানে ৬ সহযোগী আটক মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ৯৯% কেবিন ক্রু মাদকমুক্ত: পরীক্ষা সম্পন্ন মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ, নতুন নিয়মে কড়াকড়ি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাজার সাক্ষাৎ

বন্যার ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, জরুরি চিকিৎসাসেবায় সরকারের বিশেষ প্রস্তুতি

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এসব এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতে বিঘ্ন ঘটলেও স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্যাকবলিত জেলা হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ার পর রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে।

সাপের কামড়ের ঝুঁকি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওঝার কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে সাপে কাটা পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হলেও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর সবাই সুস্থ হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত রয়েছে ২১ হাজার ভায়াল এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান, বন্যাপরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »