কুয়ালালামপুর, ৫ অক্টোবর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রবাসী অঙ্গসংগঠন মালয়েশিয়া বিএনপিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দলের সংকটময় সময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে আপস করেছিলেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় গ্রেফতারের সময় বাদলুর রহমান খান প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাননি। এই নীরবতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়া বিএনপির অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া যুবদলের তরুণ নেতা মিনহাজ মন্ডল প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বের সংকটে যারা মুখ বন্ধ রাখেন, তারা আসলে নিজেদের স্বার্থই দেখেন, দলের নয়।” এই বক্তব্য মালয়েশিয়া বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাদলুর রহমান খান আবারও আলোচনায় এসেছেন, দলের আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার তৎপরতা নিয়ে। দলীয় অভ্যন্তরে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “যিনি আন্দোলনের সময়ে নীরব ছিলেন, তিনি কীভাবে আজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন?”
মালয়েশিয়া বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“বাদল ভাই এখন রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন, কিন্তু সংকটের সময় তাঁর অবস্থান নিয়ে এখনো অনেকের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক বিএনপির প্রবাসী নেতৃত্বে নতুন করে বিভাজন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্যাগ ও আন্দোলনের ইতিহাস আছে, তারা নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা চাইছেন।
এদিকে বাদলুর রহমান খান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তিনি “দলের ঐক্য ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি” নিয়েই এখন ব্যস্ত।