টোকিও, ২৪ আগস্ট : জাপানের ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রক্রিয়াজাত রেডিওঅ্যাকটিভ পানি সমুদ্রে ছাড়ার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত সমুদ্রের পরিবেশে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।
২০২৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই পানি ছাড়ার প্রক্রিয়াটি বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা ও কারিগরি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনুমোদন পেয়েছিল। উন্নত তরল প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা (ALPS)-এর মাধ্যমে অধিকাংশ রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান সরানো হয়, শুধুমাত্র ট্রিটিয়াম রয়ে গেছে যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত।
জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রের পানি, মাছ ও সামুদ্রিক জীবের নিয়মিত নমুনা পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যায়নি। “আমাদের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করছে যে বিকিরণের মাত্রা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সীমার ভেতরে রয়েছে। সমুদ্র পরিবেশে কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি,” এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)–ও জাপানের এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে।
শুরুর দিকে প্রতিবেশী দেশ ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ থাকলেও জাপান সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রিটিয়াম সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা না গেলেও ছাড়কৃত মাত্রা সামুদ্রিক জীব ও মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। জাপানি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস ও পরিস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টেপকো (TEPCO) আগামী কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে এই পানি ছাড়ার কাজ চালিয়ে যাবে।