কুয়ালালামপুর, ২৭ ডিসেম্বর : প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রকল্প ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়ান দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) তদন্ত জোরদার করায় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল দাতুক মুহাম্মদ হাফিজুদ্দিন জানতানকে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালেদ নরদিন এক বিবৃতিতে জানান, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা বা স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
“তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাপ্রধান ছুটিতে থাকবেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিঘ্নে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে,” বিবৃতিতে বলেন মন্ত্রী।
এমএসিসি জানিয়েছে, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তারা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেন টেন্ডার) মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্প এবং ‘পুসাত তাঙ্গুংজাওয়াব (পিটিজে) তেন্তেরা দারাত’-এর অধীনে পরিচালিত ক্রয় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওই দিন এমএসিসি কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নথিপত্র পরীক্ষা করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সীমিত সংখ্যক কয়েকটি কোম্পানি বারবার উচ্চমূল্যের চুক্তি পেয়ে আসছে—যা ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
এ পর্যন্ত এই মামলায় তিনজন ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক কর্মী বদরুল হিশাম শাহারিন, যিনি ‘চেগুবার্ড’ নামে পরিচিত, তাঁর বক্তব্যও এমএসিসি রেকর্ড করেছে।
মুহাম্মদ হাফিজুদ্দিন জানতান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে তিনি একই বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসেনাপ্রধান ছিলেন।
এদিকে বাধ্যতামূলক অবসরের কারণে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল তান স্রি মোহাম্মদ নিজাম জাফরের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর নৌবাহিনীর প্রধান লাকসামানা তান স্রি জুলহেলমি ইথনাইন (৫৭) কে তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জেনারেল মোহাম্মদ নিজাম জাফরের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং তাঁর অবসর জীবন শান্তিপূর্ণভাবে কাটুক বলে শুভকামনা জানিয়েছে। ১৯৬৬ সালের আগস্টে জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ নিজাম চলতি বছরের জানুয়ারিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে মালয়েশিয়ার ২৩তম সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং এমএসিসির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।