শিরোনাম :
বেসামরিক নাগরিক ও পবিত্র স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা সৌদি আলেম পরিষদের প্যারিসে দাঙ্গার মধ্যে চুরি হলো মেসির স্বাক্ষর করা একাধিক স্মারক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ৪ সমঝোতা স্মারক ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যে ৫ ফুটবলার মাদক-জুয়া বরদাশত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান ৭৭ শতাংশ ভোটার আজ থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

পাহাড়ে চড়াই যখন নেশা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
xr:d:DAFnkK2AIpo:7,j:4058138615783004595,t:23070309

প্রতিবেদন: রেজুয়ানা বিনতে রেজা

ঢাকার ব্যস্ত শহর, যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল আর ক্লান্ত মন—সব পেছনে ফেলে যখন কেউ পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়ায়, তখন মনে হয় পৃথিবীটা কতটা বিশাল, অথচ আমরা কতটা ছোট। অনেকের কাছেই পাহাড় কেবল ভ্রমণের স্থান নয়, এটি নিজেকে নতুনভাবে জানার এক গভীর যাত্রা।

 

পাহাড়ে ওঠা মানেই নিজের সীমাকে অতিক্রম করা। ভয়, ঠান্ডা, ক্লান্তি—সব কিছুকে জয় করে যখন শীর্ষে পৌঁছানো যায়, সেই মুহূর্তের অনুভূতি তুলনাহীন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন বলেন,

“প্রতিটি পাহাড় আমাকে মনে করিয়ে দেয়—জীবন কখনোই সহজ নয়, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপই এক একটি বিজয়।”

তিনি বিশ্বের সাতটি মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া (Seven Summits) জয় করে প্রমাণ করেছেন, নারীর সাহস ও সক্ষমতা কোনো সীমার মধ্যে বাঁধা নয়।

 

পাহাড়ের নিস্তব্ধতা, ঠান্ডা বাতাস, আর সবুজের সজীবতা মানুষকে দেয় এক অনন্য প্রশান্তি। শহরের ধুলো-ধোঁয়া থেকে দূরে গিয়ে কেউ যখন পাহাড়ি ঝর্ণার ধারে বসে, তখন মন যেন নতুন করে বাঁচতে শেখে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জন্ম নেয়।

 

পাহাড়ে চড়া মানে শুধু শারীরিক শক্তির পরীক্ষা নয়—এটি নিজের মন ও মস্তিষ্কের এক অনুশীলন। প্রতিটি ধাপ শেখায় ধৈর্য, সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও সাহস।

বাংলাদেশি অভিযাত্রী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম, যিনি কেওক্রাডং ও তাজিনডং বারবার জয় করেছেন, বলেন—

“পাহাড়ে উঠতে গিয়ে বুঝেছি, জীবনের বড় বাধাগুলোও আসলে মানসিক। মন যদি শক্ত হয়, পাহাড়ও জয় করা যায়।”

 

পাহাড় মানুষকে শেখায় প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে। সেখানে প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাথর, প্রতিটি ঝর্ণা মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি আমাদের বন্ধু, শত্রু নয়। তাই পাহাড়ে ওঠার পাশাপাশি প্রকৃতিকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

মানুষ পাহাড়ে চড়তে ভালোবাসে কারণ সেখানে রয়েছে চ্যালেঞ্জ, সৌন্দর্য, নিস্তব্ধতা ও আত্ম-আবিষ্কারের আনন্দ।

ওয়াসফিয়া নাজরীনদের মতো অভিযাত্রীরা আমাদের শেখান—জীবনের পাহাড় যত উঁচুই হোক না কেন, দৃঢ় মন আর অটল ইচ্ছা থাকলে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
Translate »