কুয়ালালামপুর, ২৮ মে : তীব্র তাপপ্রবাহ ও দ্রুত বিস্তৃত ডেটা সেন্টার শিল্পের কারণে মালয়েশিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় দেশটি কয়লার ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
মালয়েশিয়ার গ্রিড সিস্টেম অপারেটর (GSO)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী উপদ্বীপ মালয়েশিয়ায় এপ্রিল মাসে বিদ্যুতের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৫ শতাংশ বেড়েছে।
এই চাহিদা পূরণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ৫.৫৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় (TWh) পৌঁছেছে, যা অন্তত ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বিপরীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে ৬.৬৭ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় নেমে এসেছে, যা তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
মে মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৮.৩ শতাংশ বেড়েছে, আর কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কমেছে ৪.৮ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস জানিয়েছে, উপদ্বীপ মালয়েশিয়ায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় বাজারে এলএনজি (LNG) পাঠানো বৃদ্ধি করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মালয়েশিয়া অফশোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপদ্বীপ অঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ করেছে, যা পুরো ২০২৫ সালের সরবরাহের প্রায় তিন গুণ।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইরান কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাপান ও সাউথ কোরিয়া সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ আবার কয়লার ব্যবহার বাড়ালেও মালয়েশিয়া উল্টো গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম দামে গ্যাস সরবরাহ করায় মালয়েশিয়ায় ডেটা সেন্টার খাতে বড় বিনিয়োগ আসছে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়াবে।
এপ্রিল মাসে উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪২.৬ শতাংশ এসেছে গ্যাস থেকে, যা ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে কয়লার অংশ কমে ৫১.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের এপ্রিল মাসে ছিল ৬২.২ শতাংশ।
দেশীয় চাহিদা বাড়লেও মালয়েশিয়ার এলএনজি রপ্তানি কমেনি। চলতি বছরে দেশটির এলএনজি রপ্তানি ১৪.৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের পর বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে। তখন মালয়েশিয়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি রপ্তানি অব্যাহত রেখে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে তুলনামূলক কম দামের স্পট এলএনজি আমদানি করতে পারে।
মালয়েশিয়ার জ্বালানি কমিশন জানিয়েছে, গরম আবহাওয়া ও দ্রুত বিস্তৃত ডিজিটাল অবকাঠামোর কারণে আগামী মাসগুলোতেও বিদ্যুতের চাহিদা উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।