রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত করার পূর্ণ ক্ষমতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার মূল দায়িত্বটি সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একই বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী স্পিকার বর্তমানে অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে তারা ভোটের জন্য প্রস্তুত। ইসি তফসিল ঘোষণা করলেই চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রস্তাব বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপরই রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর একক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে না, তবে একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষভাগে কিংবা আগামী বছরের শুরুর দিকে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।