শিরোনাম :
বেসামরিক নাগরিক ও পবিত্র স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা সৌদি আলেম পরিষদের প্যারিসে দাঙ্গার মধ্যে চুরি হলো মেসির স্বাক্ষর করা একাধিক স্মারক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ৪ সমঝোতা স্মারক ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যে ৫ ফুটবলার মাদক-জুয়া বরদাশত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান ৭৭ শতাংশ ভোটার আজ থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা: ‘নো কিংস’ র‌্যালি আজ

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আজ শনিবার শুরু হচ্ছে ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশ “নো কিংস” ব্যানারে — যেখানে মিলিয়ন মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবেন। সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ দেশকে স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ২,৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বৃহত্তম জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হতে যাচ্ছে। গত জুন মাসেও একই ব্যানারে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, যা ট্রাম্পবিরোধী জনমতের পরিমাপ হিসেবে দেখা হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার দশ মাসের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক অভিবাসন অভিযান শুরু করেছে, ফেডারেল কর্মীবাহিনী কমিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থায়ন বন্ধ করেছে, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিরোধী প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ, বৈচিত্র্য ও ট্রান্সজেন্ডার নীতিমালা নিয়ে। বেশ কিছু শহরে ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন, যা তিনি যুক্তি দেন “অভিবাসন এজেন্টদের সুরক্ষা ও অপরাধ দমন” এর জন্য প্রয়োজন। “আমরা রাজা মানি না  এটিই আমেরিকার আসল চেতনা। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ব্যবহার করা আমাদের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব,” বলেছেন লিয়া গ্রিনবার্গ, প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবল (Indivisible)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যারা এই আন্দোলনের প্রধান সংগঠক।

৩০০-র বেশি স্থানীয় সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবককে আইনি প্রশিক্ষণ ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের কৌশল শিখিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে “নো কিংস” প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যাপকভাবে।

এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। যুক্তরাষ্ট্রের বহু সেলিব্রিটিও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তুলে।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দেননি। ফক্স বিজনেস-এ শুক্রবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন—

“ওরা আমাকে রাজা বলে ডাকছে , আমি কোনো রাজা নই।”

কিন্তু রিপাবলিকান নেতারা আন্দোলনটিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন শুক্রবার বলেন “আগামীকাল ডেমোক্র্যাট নেতারা ন্যাশনাল মলে বড় পার্টি করবে। ওরা একে ‘নো কিংস’ বলে, আমরা একে বলি ‘হেইট আমেরিকা র‍্যালি।’”

কিছু রিপাবলিকান নেতা সাম্প্রতিক কনজারভেটিভ কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এই ধরনের আন্দোলনকে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেরণা বলেও অভিযোগ করেছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণঅংশগ্রহণ দেখতে পারে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ডানা ফিশার বলেছেন,  “আজকের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে উদ্বিগ্ন বা নিপীড়িত মনে করা মানুষদের মধ্যে একটি যৌথ পরিচয় সৃষ্টি করা। এতে হয়তো ট্রাম্পের নীতি বদলাবে না, কিন্তু বিরোধী রাজনীতিকদের সাহস জোগাবে।”

 

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, ক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
Translate »