ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৫:
দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর শহীদ ও যোদ্ধাদের সম্মান, কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী অধিদপ্তরটি গঠিত হচ্ছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এই অধিদপ্তরের মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
প্রধান কার্যালয় ঢাকায়, শাখা হবে দেশব্যাপী
নতুন এই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থাকবে রাজধানী ঢাকায়। তবে সরকার প্রয়োজনে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এর শাখা কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে। অধিদপ্তরের নেতৃত্বে থাকবেন একজন মহাপরিচালক, যিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, অধিদপ্তরের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—
সরকারি গেজেটে প্রকাশিত শহীদদের তালিকা ও ডাটাবেজ সংরক্ষণ, সংশোধন ও হালনাগাদ করে প্রকাশের জন্য সুপারিশ; শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের এককালীন ও মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান; পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ; দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কল্যাণমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন।
ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে অধ্যাদেশে
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক নীতির কারণে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি।
২০০৯ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণ, দমন-পীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি, অর্থপাচার, সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর কাঠামোগত সহিংসতা, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে জাতি গভীর সংকটে পড়েছে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’: এক ঐতিহাসিক পর্ব
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ক্রমান্বয়ে গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনে পরিণত হয়। এই অভ্যুত্থানে হাজারের বেশি দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন এবং অসংখ্য আহত হন। তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ ও যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবিলম্বে কার্যকর, অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে।