তিন দিনের সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিও পৌঁছান তিনি।
জাপান সরকারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহামাদ হাসান, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল গনি, উদ্যোক্তা ও সমবায় উন্নয়নমন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কিয়ংসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। এসময় বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা।
৮ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সফরে জাপানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। সফরকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া-জাপান সম্পর্ককে “কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (CSP)”-এ উন্নীত করার পর দুই দেশের সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়া তার এই সফরে প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সহযোগিতা এবং শিক্ষা খাতে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
সফরের অংশ হিসেবে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিউম্যানিটি ইন এ হিউম্যান-মেশিন সিভিলাইজেশন’ শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতা দেবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ২৯ জন শীর্ষ জাপানি ব্যবসায়িক নেতার সঙ্গে বৈঠক এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
আগামী ১০ জুন অনুষ্ঠিতব্য ৩১তম নিক্কেই ফোরাম ‘ফিউচার অব এশিয়া’-তে মূল বক্তব্যও রাখবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন তিনি।
মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে জাপানের অবস্থান দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সাল থেকে দেশটি মালয়েশিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪২.৯৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৩৩.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জাপানি অংশগ্রহণে ২,৮৭২টি উৎপাদনশিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১০৭.৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৩১.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪৬টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া-জাপান সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।