পুত্রজায়া: মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, মাদানি সরকার দারিদ্র্য মোকাবিলা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে কেবলমাত্র ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে, কোনো জাতিগত পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে নয়।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বহু মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এ সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
আনোয়ার বলেন,
“এটা সত্য যে বহু মালয় সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তবে আমি বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ‘চরম দরিদ্র’ শ্রেণির মধ্যে অনেকেই ভারতীয় সমাজ থেকে আসেন।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দারিদ্র্য ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, আর মাদানি সরকার জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয় বরং সমাজের দুর্বল ও দরিদ্র শ্রেণিকে সহায়তা করে আসছে।
অর্থমন্ত্রীর প্রদত্ত তথ্যে দেখা যায়: ভারতীয় সম্প্রদায়ের জন্য নগদ সহায়তা ২০২২ সালের ৫৭৮ মিলিয়ন রিঙ্গিত থেকে বেড়ে সুম্বাঙ্গান টুনাই রহমাহ কর্মসূচির আওতায় ৯৭২ মিলিয়ন রিঙ্গিতে পৌঁছেছে। মাত্র তিন বছরে এই সহায়তা বেড়েছে ৬৮%, যেখানে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৩৯% থেকে ৬০%। চীনা উদ্যোক্তারা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) এবং বড় কোম্পানিসহ, পেয়েছেন প্রায় ১৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা ব্যবসায়িক অর্থায়ন নিশ্চয়তা স্কিম (SJPP)-এর মোট বরাদ্দের ৭৫%। মালয় ও বুমিপুত্র সম্প্রদায়ের জন্য, PuTERA35 নামের বিশেষ নীতি চালু করা হয়েছে, যা লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে।
আনোয়ার স্বীকার করেন, মালয়েশিয়ার বহুজাতি সমাজে এ ধরনের বিষয় সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন—
“মাদানি সরকার দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ, আর আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো ন্যায় ও রহমতের নীতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।”