লন্ডন: গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শুরু হওয়া তদন্তের ৮৮ শতাংশই কোনো অভিযোগ গঠন বা দোষের প্রমাণ ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ-পর্যবেক্ষক সংস্থা Action on Armed Violence (AOAV)-এর এক প্রতিবেদনে।
রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের ফলে কমপক্ষে ১,৩০৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৮৮০ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচিত ৫২টি ঘটনার মধ্যে কেবলমাত্র একটি মামলায় কারাদণ্ড হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৪: গাজা শহরে আটা সংগ্রহের লাইনে থাকা কমপক্ষে ১১২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা।
জানুয়ারি ২৯, ২০২৪: পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রাজাব ও তার পরিবার ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হন।
মে ২০২৪: রাফাহর শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলায় ৪৫ জন নিহত।
১ জুন ২০২৫: রাফাহতে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা, যা প্রথমে ইসরায়েল “মিথ্যা” বলে দাবি করলেও পরে জানায় এটি “পর্যালোচনার আওতায়” রয়েছে।
আরেকটি আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে, ২৩ জুন ২০২৪-এ পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে একটি অভিযানের সময় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক মুজাহিদ আজমিকে সামরিক জিপের সামনে বেঁধে রাখা হয়। এই ঘটনা স্বীকার করলেও এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২৩ মার্চ ২০২৫, ১৫ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মী স্পষ্ট চিহ্নিত একটি অ্যাম্বুলেন্সে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী “পেশাগত ব্যর্থতা” স্বীকার করলেও শুধু এক উপ-কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে; বিচার হয়নি।
এই ৫২টির মধ্যে:
৭টি মামলা বন্ধ হয়েছে দোষী প্রমাণ ছাড়াই,
৩৯টি মামলা এখনো বিচারাধীন বা কোনো ফলাফল জানানো হয়নি,
কেবল একটি মামলায় ৭ মাসের কারাদণ্ড হয়েছে—যেখানে একজন রিজার্ভ সেনা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ স্দে তেইমান আটক কেন্দ্রে বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
আরও পাঁচটি মামলায় নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে এপ্রিল ২০২৪-এ World Central Kitchen-এর সাতজন ত্রাণকর্মীর হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় একজন কর্নেল ও একজন মেজরকে বরখাস্ত করা হয়, এবং তিনজন কর্মকর্তাকে তিরস্কার করা হয়।
AOAV-এর গবেষক ইয়েইন ওভারটন ও লুকাস সান্টজুরিস বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর এই তদন্তগুলো দিন দিন “অস্বচ্ছ এবং ধীরগতির” হয়ে উঠছে, যা স্পষ্টতই “দায়মুক্তির একটি প্যাটার্ন” তৈরি করছে।
প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সম্মান রক্ষা করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করে আসছে যে তাদের সামরিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিচারহীনতা চলতে থাকলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে এবং ন্যায়বিচারের আশা ম্লান হবে।