তেলআভিভ: গাজায় ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বন্দীদের পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু “ইচ্ছাকৃতভাবে” বন্দীদের পরিত্যাগ করেছেন এবং হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ব্যর্থ করেছেন।
শনিবার রাতে তেলআভিভে এক বৃহৎ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে, গাজায় আটক থাকা রম ব্রেসলাভস্কির পিতার কণ্ঠে শোনা যায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ: “আমার ছেলে মরছে! আপনিই তাকে পরিত্যাগ করেছেন। আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি সেই ব্যক্তি যিনি প্রতিটি সুযোগ নষ্ট করেছেন। আর না!”
তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, “এই ধাপে ধাপে চুক্তির পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে। এখনই সিদ্ধান্ত নিন — যুদ্ধ শেষ করুন, এবং সবাইকে ফিরিয়ে আনুন।”
বন্দী ইভিয়াতার ডেভিডের ভাই ইলাই ডেভিডও একই বিক্ষোভে বলেন, “তারা এখন প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি। বর্তমান অবস্থা এমন যে, তাদের হয়তো আর কয়েকদিন বেঁচে থাকার মতো সময় আছে।”
হিব্রু পত্রিকা ইদিয়োত আহরোনোথ জানিয়েছে, গাজায় আটক প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলির মধ্যে দুইজনকে সম্প্রতি “অত্যন্ত ক্ষীণ ও অনাহারগ্রস্ত” অবস্থায় দেখা গেছে।
এই সময়ে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা বন্দীদের রক্ষার চেয়ে নেতানিয়াহুর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছে, এমনটি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ৭৩ বছর বয়সী তামার গার্শোনিকে RPG লঞ্চার কেনার চেষ্টায় গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করার পর নিরাপত্তা ইস্যুটি আলোচনায় আসে।
বন্দীদের পরিবার বারবার বলেছে, গাজায় চলমান গণহত্যামূলক আগ্রাসন তাদের প্রিয়জনদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তারা একটি সামগ্রিক শান্তিচুক্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে বন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত হয় এবং সহিংসতা অবসান ঘটে।
গত জানুয়ারিতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ফলে কিছু বন্দী এবং ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েল সেই চুক্তি নবায়ন না করে বরং যুদ্ধ তীব্র করে তোলে, এবং দুই মাসের ওই চুক্তি চূর্ণ করে দেয়।
এখন পর্যন্ত বহু বন্দী ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি যারা বেঁচে আছেন, তারা খাবার ও চিকিৎসার তীব্র সংকটে রয়েছেন।
বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং গাজাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইসরায়েলি-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার যুদ্ধের কোনো মূল লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে—হামাসকে নির্মূল করা কিংবা গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে বন্দীদের জীবন বিপন্ন হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েও ইসরায়েল তার আগ্রাসন বন্ধ করেনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যুদ্ধ বন্ধ ও গণহত্যা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানালেও, তা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ইসরায়েলকে কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলবিরোধী প্রস্তাবগুলো ঠেকিয়েও দিচ্ছে—যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় পর্যায়েই নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি চাপ বাড়ছে—যুদ্ধ বন্ধ, বন্দীদের মুক্তি এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার জন্য।







