কুয়ালালামপুর, ৩০ অক্টোবর:গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতো সেরি খালেদ নুরুদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমানে কেবল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বুধবার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান ও আসিয়ান প্লাস প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খালেদ নুরুদ্দিন বলেন, “মালয়েশিয়া এবং আসিয়ান জোট যুদ্ধ বা সহিংসতায় নয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী। গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনা চলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠক থেকে একটি সমঝোতামূলক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশা করছি। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
এছাড়া, তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়েও মন্তব্য করেন। খালেদ জানান, “মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধানের নেতৃত্বে ওই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, চলতি আসিয়ান প্রতিরক্ষা ও আসিয়ান প্লাস বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ৫০টিরও বেশি নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে।
খালেদ নুরুদ্দিনের মতে, এই চুক্তিগুলো শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং মানবিক সহায়তা, শান্তিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
গাজায় মালয়েশিয়ার সৈন্য পাঠানোর এই পরিকল্পনা দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ও শান্তিরক্ষামূলক অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।