কুয়ালালামপুর, ১৮ মে : মালয়েশিয়ার কাজাং এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৭০ টনের হিমায়িত মাংস ও খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ রিঙ্গিত।
বুকিত আমানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো/স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইন্টেলিজেন্স (WCB) ইউনিট গত ১৪ ও ১৫ মে “অপস তারিং চিলার” নামে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে কাজাংয়ের বিভিন্ন গুদাম, লজিস্টিক যানবাহন এবং বিতরণ নেটওয়ার্কে অভিযান চালানো হয়, যেগুলো একটি অবৈধ হিমায়িত খাদ্য সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ডব্লিউসিবির পরিচালক কমিশনার দাতুক সেরি মোহদ ইউসরি হাসান বাসরি জানান, অভিযানে ২১ থেকে ৪৩ বছর বয়সী পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ান এবং চারজন মিয়ানমারের নাগরিক।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট ১৯৫৩-এর ধারা ৫ লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, বিক্রি ও বিতরণ করছিল।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪,৮৪০ কার্টন হিমায়িত শূকরের মাংস, ৪১০ কার্টন আমদানিকৃত হিমায়িত মুরগির ডানা এবং ১১৫ কার্টন হিমায়িত হাঁস।
মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৩ দশমিক ৭২ কেজি হিমায়িত খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সময় আরও কয়েকটি অপরাধের তথ্যও উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ কর্মপরমিট ছাড়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ এবং বৈধ ভ্রমণ নথি প্রদর্শনে ব্যর্থতা।
এছাড়া, কিছু আমদানিকৃত পণ্যে স্বীকৃত নয় এমন হালাল লোগো ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে একই স্থানে হালাল ও নন-হালাল পণ্য একসঙ্গে সংরক্ষণের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
কমিশনার মোহদ ইউসরি জানান, প্রতিষ্ঠানটি কাজাং মিউনিসিপাল কাউন্সিলের লাইসেন্সের আওতার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছিল এবং ২০৩১ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিজ কমিশন অব মালয়েশিয়া (SSM)-এ নিবন্ধিত ছিল।
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স ছিল না।
পুলিশের ধারণা, চীন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব হিমায়িত মাংস আমদানি করে মালয়েশিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তপথ দিয়ে পাচার করা হয়েছে।
জব্দকৃত এসব মাংস স্থানীয় হাইপারমার্কেট ও রেস্তোরাঁগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।