ইস্তাম্বুল, ১ অক্টোবর: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদার করছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য “শান্তি চাইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে” এর জবাবে পেসকভ বলেন, “আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শান্তির প্রতিও অঙ্গীকারবদ্ধ। ইউক্রেন সংকটসহ সব বিষয়ই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য আমরা উন্মুক্ত।”
তিনি জানান, বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা “স্থবির” অবস্থায় রয়েছে। তবে যেকোনো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আগে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা জরুরি। “শুধু শীর্ষ নেতাদের বৈঠক করলেই এই জটিল সংকটের সমাধান সম্ভব নয়,” মন্তব্য করেন পেসকভ।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন পক্ষ আলোচনায় গড়িমসি করছে এবং ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাশিয়ার জমা দেওয়া খসড়া নথি ও তিনটি কার্যকরী কর্মদল গঠনের প্রস্তাবে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেনের তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড় ধরনের বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হয় এবং ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির জন্য উভয় পক্ষের অবস্থান তুলে ধরে খসড়া প্রস্তাব তৈরি হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ২০১৯ সালের পর থেকে এ দুই নেতার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।
এদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রটির ক্ষতি করছে।
পেসকভ এ অভিযোগকে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাশিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কেন্দ্র বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করবে—এটি বলা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। এই কেন্দ্র আমাদের নিয়ন্ত্রণে, তাই নিরাপত্তার দায়িত্বও আমাদের।”
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে রাশিয়া নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি জানান।
জেলেনস্কি মঙ্গলবার রাতে এক ভাষণে সতর্ক করে বলেন, কেন্দ্রটির জরুরি ডিজেল জেনারেটরের একটি ব্যর্থ হয়েছে এবং পরিস্থিতি “গুরুতর”। তবে আইএইএ জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে বর্তমানে আটটি জেনারেটর সচল রয়েছে, আরও নয়টি মজুদ আছে এবং জ্বালানি মজুত রয়েছে অন্তত ১০ দিনের জন্য।
২০২২ সালের মার্চ থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এ পারমাণবিক কেন্দ্রের ভেতরে আইএইএ-এর কর্মীরা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে থেকে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।