পুত্রজায়া, ২১ জুলাই ২০২৫ : মালয়েশিয়া আজ ১০৩তম ইমিগ্রেশন দিবস উদযাপন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) অভিবাসন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে, যা ডিজিটাল প্রশাসনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাকে নির্দেশ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়বি দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন বিন ইসমাইল, যিনি পুত্রজায়ার জাবাতান ইমিগ্রেসেন মালয়েশিয়া (JIM)-এর সদর দফতরে দিবসটির উদ্বোধন করেন।
এই বছরের প্রতিপাদ্য “AI নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিবাসন সংস্কারে” অভিবাসন খাতে প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশের প্রতীক। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এই প্রতিপাদ্য মাদানি সরকারের সেই মূলনীতির প্রতিফলন, যেখানে উদ্ভাবন, দক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব সেবার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে অন্যতম উদ্ভাবন হিসেবে ঘোষিত হয়েছে MyVISA 2.0 – একটি উন্নত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা, যা ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি অভিবাসন সেবায় গতি, স্বচ্ছতা এবং ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করবে বলে জানানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, “এটি কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি পদক্ষেপ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত পরিবর্তন – যেখানে সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে কেএডিএন (KDN)-এর সংস্কার কর্মসূচির আওতায় AI-কে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির এবং নাগরিক সেবায় গতিশীলতা আনার একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM) জানায়, তারা নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি-নির্ভর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একইসাথে, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবল দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তা স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে AI-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
জিম-এর মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, “আমরা ইতোমধ্যে ৩ থেকে ৪ ব্যাচে, প্রতিটিতে ২০ থেকে ৩০ জন করে কর্মকর্তাকে AI প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছি। মন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে—যাতে ভবিষ্যতের অভিবাসন কর্মকর্তা AI ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভাগকে আহ্বান জানান, যেন আরও বেশি কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, “উন্নত প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারই অভিবাসন বিভাগের সার্ভিস ডেলিভারিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।”
এই দিবসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, দক্ষ ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিই হবে ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি।