পুত্রাজায়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি: মালয়েশিয়া বর্তমানে নিপাহ ভাইরাস থেকে মুক্ত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ভেটেরিনারি সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (ডিভিএস)। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি মানবদেহে নিপাহ সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর দেশটি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে।
ডিভিএস জানায়, ভাইরাসটির প্রবেশ ও সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে ধারাবাহিক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। প্রাণিস্বাস্থ্য ও প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এমন রোগ প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ডিভিএসের তথ্যমতে, গৃহপালিত শূকর ও বন্য শূকরের ওপর প্রতি বছর নজরদারি কার্যক্রম চালানো হয়। ২০২৫ সালে গৃহপালিত শূকর থেকে ২,০০০-এর বেশি এবং বন্য শূকর থেকে ৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার সবগুলোতেই নিপাহ ভাইরাস নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। এছাড়া, নিপাহমুক্ত দেশ থেকেই কেবল শূকরজাত পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ডিভিএস আরও জানায়, ফলখেকো বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স) নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে চিহ্নিত, আর শূকর এই ভাইরাসের বিস্তারকারী বা “অ্যামপ্লিফাইং হোস্ট” হিসেবে কাজ করতে পারে। শূকর খামারে যথাযথ বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা না থাকলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
সংক্রামিত শূকরের মধ্যে নিপাহ রোগের লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর, অবসাদ, ক্ষুধামান্দ্য এবং স্নায়বিক সমস্যা যেমন কাঁপুনি ও খিঁচুনি দেখা যেতে পারে। খামারে সংক্রমণের হার বেশি হলেও মৃত্যুহার মাঝারি হতে পারে।
বিশেষ করে ফলবাগানের কাছে অবস্থিত শূকর খামারগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এসব এলাকায় বাদুড় বেশি আসে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। খামারিদের বাদুড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বাদুড় আকর্ষণকারী পরিবেশগত উপাদান কমানো এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিপাহ রোগ মালয়েশিয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্টযোগ্য রোগ। সন্দেহজনক কোনো সংক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত ডিভিএসকে জানাতে বলা হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিভিএস জানিয়েছে, প্রাণিস্বাস্থ্য, পশুপালন শিল্পের স্থায়িত্ব এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি ও নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।