শিরোনাম :
Bangladeshi Worker Pleads Not Guilty to Fatal Reckless Driving Charge in Malaysia Modi vows tougher action against paper leaks, says issue affects millions of students জোহরের মালয় ভোটারদের সঙ্গে নেগেরি সেম্বিলানের ভোটারদের তুলনা নয়: আমিনুদ্দিন হারুন জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কম শুল্কের সুবিধা পেল মালয়েশিয়া, সামনে নতুন তদন্ত ইসরায়েলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইহুদিবিদ্বেষ নয়, নিপীড়নের প্রতিবাদ: আনোয়ার ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়’, মধ্যরাতের ভিডিও বার্তায় মোদি কুয়ালালামপুরে অভিবাসন বিভাগের অভিযান, ১০৯ বিদেশি নাগরিক আটক বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ শিল্পের সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্ব আনোয়ার ইব্রাহিমের MACC, Petronas Reaffirm Partnership to Strengthen Integrity, Fight Corruption

তারেক রহমান দেশে ফিরছেন : বিএনপিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
আগামী নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের প্রথমে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনে সপরিবার সৌদি আরব যেতে পারেন। সেখান থেকে লন্ডন হয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন দলের এই শীর্ষনেতা। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। নির্বাচনের আগে দলের প্রিয় ও শীর্ষনেতার দেশে ফেরা ঘিরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। স্মরণকালের বিশাল সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত নেতা-কর্মীরা।

এদিকে তাঁর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বাসভবন, অফিস ও বুলেটপ্রুফ গাড়ি, সিকিউরিটি এবং তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সসহ সব প্রক্রিয়াই প্রায় শেষের দিকে। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শিগগিরই তাঁর ফেরার তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, একজাক্ট দিন কিংবা সময় এখনো নির্ধারণ করা না হলেও নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা বেশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দেশে ফিরে তিনি নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন। জনগণের রায় পেলে পরে তিনি দেশেরও নেতৃত্ব দেবেন ইনশাআল্লাহ। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের শেষ লগ্নে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান।

জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেড় যুগের বেশি সময় পর দেশে ফেরাকে ঘিরে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাঁর ফেরার ক্ষেত্রে আইনিভাবেও কোনো বাধা নেই। দেশে ফিরে তাঁকে আদালত প্রাঙ্গণে যেতে হবে না বলেও জানান দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘তাঁর আদালতের কোনো ধরনের ম্যাটার অবশিষ্ট নেই। যেহেতু প্রত্যেক মামলায় খালাস পেয়েছেন। আর অনেকগুলো মামলা রয়েছে যেগুলো জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে দায়ের করা মামলাগুলোও খালাস ও নিষ্পত্তি হয়েছে। সুতরাং এখন তিনি তাঁর নিজের, পরিবারের এবং দলের প্রয়োজন ও সুবিধামতো যখন খুশি দেশে ফিরতে পারেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, নভেম্বরের শেষের দিকে তারেক রহমান সৌদিতে সপরিবার ওমরাহ পালন শেষে ফের লন্ডনে ফিরে যাবেন। এরপর সেখান থেকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ঢাকার ফ্লাইট ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন দেশে আসবেন তখন তাঁর নিরাপত্তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এটা দিয়ে যে পরিমাণ নিরাপত্তা দরকার সেটা কিন্তু দেওয়া সম্ভব না। সরকারি নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সরকারকে জানাব, তারা এসএসএফ দেবে, আর্মি দেবে না; না অন্য কাউকে দেবে তা সরকার দেখবে।’

ফজলে এলাহী আরও জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজাবে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে। ফজলে এলাহী জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফেরার পর গুলশান-২ অ্যাভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকবেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিতরে ও বাইরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে তাঁকে। রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে গুলশান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চেয়ারপারসন কার্যালয়। কিংবা অদূরের বাসভবন। সবকিছুই হচ্ছে সংস্কার। ঘষামাজা ছাড়াও বাড়ানো হচ্ছে অধিক নিরাপত্তা। যদিও এখনো তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি কাটেনি। দলীয় সূত্র বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুইটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি পেয়েছে দলটি। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও প্রক্রিয়াধীন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক আলোচনাও হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ির জন্য এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের ব্যাপারে। গাড়ির অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও অপেক্ষমাণ। নভেম্বর মাসের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই তিনি দেশে আসতে পারেন। এর আগেই জাপান থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িও চলে আসবে।

বিএনপি কার্যালয়ে প্রস্তুতি জোরদার: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অফিস কার্যক্রমের জন্য নতুন সাজে সাজছে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়। সেখানে চলছে ব্যাপক সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ। তারেক রহমান যেন দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও সহজে পরিচালনা করতে পারেন, এই লক্ষ্যেই কার্যালয়টিকে আধুনিকভাবে সাজানো হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর নেতৃত্বে অফিসের লজিস্টিক, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে সভা ও সম্মেলনকক্ষ, মিডিয়া সেন্টার ও সাংগঠনিক দপ্তরে আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে বাড়ানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে আরও সংগঠিত ও আধুনিক করা হচ্ছে, যাতে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালনা আরও কার্যকর হয়। সংস্কারকাজ শেষ হলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »