জেরুজালেম: ইসরায়েলে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সর্বাত্মক ধর্মঘট ও বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। রবিবার দেশব্যাপী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পানি ছিটানোর কামান ব্যবহার করে পুলিশ অন্তত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পরিবারের সদস্য ও শোকাহত আত্মীয়দের নেতৃত্বে আয়োজিত এই “অচলাবস্থার দিন” কর্মসূচিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও থিয়েটারের একটি অংশ বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে, মহাসড়ক অবরোধ করে এবং নেতাদের বাড়ির সামনে সমবেত হয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ান।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে ইসরায়েলে শুরু হয় চলমান যুদ্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের হাতে এখনো ২০ জন জিম্মি জীবিত আছেন এবং প্রায় ৩০ জনের মরদেহ তারা ধরে রেখেছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জিম্মিদের প্রাণহানি বাড়বে। তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সাবেক জিম্মি আরবেল ইয়েহুদ বলেন:
“সামরিক চাপ জিম্মিদের ফেরায় না, বরং তাদের মেরে ফেলে। তাদের ফেরানোর একমাত্র উপায় হলো আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা।”
তেল আবিবের “হোস্টেজ স্কয়ারে” সমাবেশে অংশ নিয়ে জিম্মি মাতান আংগ্রেস্টের মা আনাত আংগ্রেস্ট বলেন:
“আজ আমরা সব কিছু থামাই—শুধু জিম্মিদের ও সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার জন্য। আজ আমরা মানবজীবনের মর্যাদা স্মরণ করি, এবং সবাই একসঙ্গে হাত মিলাই।”
বিক্ষোভকারীরা দেশজুড়ে হলুদ ফিতা বিতরণ করেছেন, যা জিম্মিদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জিম্মিদের মুক্তির দাবি মেনে নিলেও বলেছেন, যুদ্ধ থামানোর দাবি হামাসকে শক্তিশালী করবে।
তিনি রবিবার বলেন:
“যারা আজ যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা শুধু হামাসের অবস্থানকে শক্ত করছে এবং আমাদের জিম্মিদের মুক্তির পথ বিলম্বিত করছে। এতে ৭ অক্টোবরের ভয়াবহতা আবারও ফিরে আসবে।”
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ধর্মঘটকে “হামাসের স্বার্থে কাজ করা একটি ক্ষতিকর প্রচারণা” বলে অভিহিত করেছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজায় ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এটি ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভ। সমাজে সরকারবিরোধী ক্ষোভ দ্রুত বাড়ছে, যেখানে পরিবারগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতার দাবি জানাচ্ছে।