আগাম, ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৯ জনে পৌঁছেছে। শনিবার নতুন করে আরও ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ১৭৪ জন নিখোঁজ, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহজুড়ে চলা প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে পড়ায় পাহাড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে বন্যার স্রোত বয়ে যায়, অসংখ্য ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ভেসে যায় এবং বহু এলাকা কাদামাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে।
তীব্র ক্ষয়ক্ষতি, সড়ক ধস, সেতু ভেঙে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
উত্তর সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান জানিয়েছেন, শনিবার উদ্ধারকর্মীরা ৩১ জনের দেহ উদ্ধার করেন। প্রদেশজুড়ে ৩,৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ২৮,৪০০ এর বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য।
পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলা, বিশেষ করে সালারেহ আইয়া গ্রামের তিনটি এলাকায় প্রায় ৮০ জন মানুষ এখনও কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকারীরা হাত, কোদাল ও শাবল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন, আর আশপাশে দাঁড়িয়ে আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
ওয়েস্ট সুমাত্রার এয়ার তাওয়ার বিচে তীরে উঠে আসা বিপুল পরিমাণ গাছের গুঁড়ি দেখে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন , অবৈধভাবে গাছ কাটার কারণেই হয়তো ভূমিধসের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
আচেহ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ায় ট্রাক্টরসহ ভারী যন্ত্র মোতায়েন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শত শত পুলিশ, সেনা ও গ্রামবাসী হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দু’জন উদ্ধারকর্মী প্রবল স্রোতের মাঝেও রাবারের নৌকা নিয়ে এক ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যিনি একটি নারকেল গাছ আঁকড়ে ধরে ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ানতো বলেছেন, “মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশঙ্কা করছি, কারণ অনেক জায়গায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।”
আচেহর গভর্নর মুজাকির মানাফ পরিস্থিতিকে ডিসেম্বর ১১ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দ্রুত অনেক কিছু করতে হবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তা করতে দিচ্ছে না।”
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আচেহর বিরেউন জেলায় আকস্মিক বন্যায় একাধিক সেতু ভেঙে পড়েছে, দুইমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং মানুষ নৌকায় করে গ্রাম থেকে গ্রামে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার অঞ্চলজুড়ে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া নিয়মিত ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ও মৌসুমি দুর্যোগের শিকার হয়। মৌসুমি বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধস দেশটিতে বারবার দেখা যায়, বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে।
উদ্ধারকারী দলগুলো সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আরও অনেক এলাকায় প্রবেশের পর পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন খবর পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।