ইরান হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ‘টোল বুথে’ পরিণত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। নিরাপদে যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের উপায় খুঁজছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি জাভান’ জানিয়েছে, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজ থেকে অর্থ আদায় করলে তা ‘যুদ্ধে ইরানের ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর ব্যারেলপ্রতি ৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কর আরোপ করা হতে পারে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয়ের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নাও হতে পারে, কারণ দেশটি নিজেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল উৎপাদন করে। কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এটি পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা হতে পারে।
এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, ইরান জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে দেওয়ার জন্য শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আদায় করছে। বিষয়টি আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ইরানের সংসদে একটি বিলও বিবেচনাধীন।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ আলাউদ্দিন বোরুজের্দি বলেন, প্রণালি অতিক্রমকারী কিছু জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ট্রানজিট ফি আদায় করা ইরানের শক্তির প্রতিফলন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি সাধারণভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত। তিনি বলেন, অনেক জাহাজই অবাধে যাতায়াত করতে পারছে। যারা আমাদের সীমা লঙ্ঘন করে, তারা ছাড়া এই প্রণালি সবার জন্য খোলা।
এরই মধ্যে ভারতের চারটি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। তারা কোনো অর্থ প্রদান করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার চওড়া। ইরানের উপকূলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, এমনকি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিও রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির কাছে মাইন স্থাপনে সক্ষম ছোট নৌযানও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত বাড়লে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক প্রহরাও সবসময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে নাও সক্ষম হতে পারে।