রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ (সোমবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত সংস্থার দেওয়া খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ ছাড়াও একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর এবং তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে এবং তা পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে গত ১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে যাওয়া ওই দলে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে সমাবেশস্থল খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
সম্প্রতি এক পরামর্শ সভায় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর আহত-নিহতের বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা হয়েছিল, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত সংস্থা ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।