মালয়েশিয়ায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত এক অভিযানে আটক হয়েছেন এক রোহিঙ্গা শ্রমিক। পরে কর্মকর্তাদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, দারিদ্র্যের চাপে আইন ভাঙতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে দেশটিতে নতুন করে অভিবাসী শ্রমিকদের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সাবাং জায়ায় ‘অপারাসি পেনদুয়া ওয়ার্গা আসিং’ নামে একটি যৌথ অভিযানে এই ঘটনা ঘটে। সেলাঙ্গর রোড ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে বিদেশি চালকদের লক্ষ্য করে যানবাহন তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে আটক হন প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শ্রমিক, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রোড ট্যাক্স ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।
পেশায় ক্লিনার ওই ব্যক্তি জানান, তার মাসিক আয় প্রায় ১,৪০০ রিঙ্গিত। এই আয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাসাভাড়া, কিস্তি এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন।
এ অবস্থায় আইনি কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল নিবন্ধন করতে না পারার কারণে সেটি বন্ধুর নামে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এমনকি তিনি আরো বলেন, “আমি জানি এটা ভুল, কিন্তু আমার কোনো উপায় নেই। কাজ না করলে পরিবার কীভাবে বাঁচবে?”
অভিযানে মোট ১২০টি যানবাহনে পরীক্ষা চালানো হয় এবং ৩৪টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জারি করা হয় শতাধিক নোটিশও। এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন মান্যতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।