মালয়েশিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্র এখন নতুন কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে। এসব চক্র শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করছে,
যাকে বলা হচ্ছে ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’। এতে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।
এতে প্রতারণা চক্র প্রথমে শিক্ষার্থীদের সহজে আয় করার প্রলোভন দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের এককালীন ১,০০০ থেকে ২,০০০ রিঙ্গিত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার বিনিময়ে। পরে ওই অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা পাঠানো হয় এবং দ্রুতই সেই টাকা তুলে নেয় প্রতারকরা। ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ লেনদেন ও গোপন রাখা হয়।
মঙ্গলবার সেরেমবানে কোলেজ তুয়ানকু মুহরিজ ফর্ম সিক্সে ‘সেফ স্কুলস প্রোগ্রাম’ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, অনলাইন প্রতারণার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাই এসব চক্রের প্রধান টার্গেট। কারণ তারা তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ এবং দ্রুত অর্থ আয়ের প্রলোভনে সহজেই আকৃষ্ট হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতারকরা একাধিক অ্যাকাউন্ট ও এটিএম কার্ড ব্যবহার করে দ্রুত টাকা তুলে নেয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, মিউল অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্রতারণা রোধে সরকার দণ্ডবিধিতে সংশোধন এনেছে। নতুন আইনে অন্যের এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ই-ওয়ালেট বা অন্যান্য পেমেন্ট মাধ্যম অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা হস্তান্তরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে, যাতে তারা বুঝতে পারে নিজের ব্যাংক হিসাব অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও জানান, অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তার জন্য ন্যাশনাল স্ক্যাম রেসপন্স সেন্টার (NSRC) ৯৯৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘সেফ স্কুলস প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য শুধু সাইবার অপরাধ নয়, বরং স্কুলগুলোকে বুলিং, যৌন হয়রানি, মাদক ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা।
এরআগে, সাইফুদ্দিন নেগেরি সেম্বিলানের এসএমকেএ শেখ হাজি মোহদ সাঈদ, এসএমকে তুঙ্কু আমপুয়ান দুরাহ এবং কোলেজ ভোকাসিওনাল আমপাঙ্গান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্কুলগুলোকে উগ্রবাদী চিন্তাধারা ও চরমপন্থি প্রভাবমুক্ত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উগ্রবাদী ও বিভাজনমূলক মতাদর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এসময় তিনি অভিভাবক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।