প্রধানমন্ত্রী তারেকের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, ঢাকা–কুয়ালালামপুর সম্পর্কে নতুন গতি

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া সফর করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শ্রম, জ্বালানি, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সফরকালে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক নথি বিনিময়ও হয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা জয়েন্ট কমিশন মিটিং ও দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ বৈঠক দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠনের অগ্রগতিকেও স্বাগত জানিয়েছে দুই পক্ষ।

দুই দেশ টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সেও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শ্রম খাতে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাব মালয়েশিয়া গ্রহণ করেছে এবং নতুন শ্রমিক কোটার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ। এ ছাড়া বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা ও নতুন চুক্তির ভিত্তি তৈরির জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয়েছে তারা।

শিক্ষা খাতে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অবদান তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যটন খাতেও সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে এলএনজি সরবরাহ, অবকাঠামো ও পেট্রোলিয়াম খাতে বিদ্যমান সমঝোতা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

যৌথ বিবৃতির শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরকালে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়ার সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »