শ্রমবাজার চুক্তি পর্যালোচনায় সম্মত বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া, স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
YAB Perdana Menteri, Dato' Seri Anwar Ibrahim semasa Sidang Media Bersama Perdana Menteri Bangladesh, Tarique Rahman di Perdana Putra, Putrajaya. 22 Jun 2026. AFIQ HAMBALI/Pejabat Perdana Menteri. NO SALES; NO ARCHIVE; RESTRICTED TO EDITORIAL USE ONLY. NOTE TO EDITORS: This handout photos may only be used for editorial reporting purposes for the contemporaneous illustration of events, things or the people in the image or facts mentioned in the caption. Reuse of the pictures may require further permission.

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বিদ্যমান চুক্তি পর্যালোচনা এবং নতুন কাঠামো তৈরির বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সই করা শ্রম সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা চুক্তিটি রিভিউ করে নতুন একটি খসড়া তৈরিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সোমবার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানান হয়।

এতে বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষে মানুষে যোগাযোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিময় এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সঙ্গে দেশটিতে আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। এমনকি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তারেক রহমান।

এ অবস্থায় শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মালয়েশিয়া বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ নতুন করে কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব উত্থাপন করলে মালয়েশিয়া জানায়, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন কোটা আগের মতো উন্মুক্তভাবে দেওয়া হবে না। বরং নিয়োগকর্তার প্রকৃত চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলো, অনুমোদিত কোটার আওতায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক। একই সঙ্গে শুধুমাত্র যোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অব্যাহত নিরাপদ ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে উভয় দেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি নতুন, আপডেট করা সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরির ভিত্তি তৈরি করে সময়োপযোগী নতুন চুক্তি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার জটিলতা কমবে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ নিয়োগ ব্যবস্থার পথ তৈরি হতে পারে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »