থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আগামী সেপ্টেম্বরে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। আলোচনা সফল হলে দুই দেশ একটি যৌথ নথিতে সই করে যৌথ ঘোষণা দিতে পারে।
থাই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি দলের উপদেষ্টা ওয়ান মুহাম্মদ নুর বলেন, মূল বৈঠকের আগে উপকমিটির পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় মূল কমিটির বৈঠকের আগে আরও অন্তত দুটি উপকমিটির বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে সমঝোতা হলে দুই পক্ষ যৌথ নথিতে সই করে আলোচনার ফলাফল তুলে ধরে বিবৃতি দিতে পারে।
ওয়ান মুহাম্মদ নুর বলেন, শান্তি সংলাপ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর আশা, সেপ্টেম্বরে বৈঠকের পর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শান্তি প্রক্রিয়ায় আরও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের আগামী ৯ ও ১০ জুলাইয়ের মালয়েশিয়া সফর নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ সফরের মূল লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আসিয়ানভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ। তবে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে, যদিও সেটি মূল এজেন্ডা নয়।
ওয়ান মুহাম্মদ নুর বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাইবে থাইল্যান্ড।
এছাড়া সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সহিংস ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি সংলাপে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে মালয়েশিয়া। আলোচনার আওতায় রয়েছে পাত্তানি, ইয়ালা, নারাথিওয়াত এবং সংখলার কিছু এলাকা।
গত মে মাসে থাইল্যান্ড সরকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (এনআইএ) পরিচালক থানাত সুয়ান্নাননতকে শান্তি আলোচনার নতুন প্রধান আলোচক হিসেবে নিয়োগ দেয়। আর মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক মহাপরিচালক মোহদ রবিন বাসির।