মালয়েশিয়ায় চলতি বছরে পেট্রোল ও ডিজেল ভর্তুকিতে সরকারের ব্যয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন রিঙ্গিতে পৌঁছাতে পারে, যা বাজেট ২০২৬ এ নির্ধারিত ১৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডিজেল ও আরওএন৯৫ পেট্রোলের ভর্তুকিতে সরকারের মাসিক ব্যয় ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত। তবে মার্চ ও এপ্রিলে তা দ্রুত বেড়ে মাসে প্রায় ৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদর অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ সালে পেট্রোলিয়াম পণ্যে ভর্তুকি ব্যয় ৪০ বিলিয়ন রিঙ্গিতের কাছাকাছি যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ভর্তুকি বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী মালয়েশীয় নাগরিকেরা আগের মতোই প্রতি লিটার আরওএন৯৫ পেট্রল ১ দশমিক ৯৯ রিঙ্গিত দামে কিনতে পারবেন।
এ ছাড়া জেলেরা প্রতি লিটার ডিজেল ১ দশমিক ৬৫ রিঙ্গিত দামে পাচ্ছেন। কৃষক, ক্ষুদ্র চাষি, গণপরিবহন পরিচালনাকারী এবং নির্দিষ্ট লজিস্টিক খাতের উদ্যোক্তারাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পাচ্ছেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, দুই লাখ ১০ হাজারের বেশি কৃষক ও ক্ষুদ্র চাষি একটি কর্মসূচির আওতায় মাসিক নগদ সহায়তা পাচ্ছেন, যা আগের ২০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ৪০০ রিঙ্গিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া নৌযান পরিচালনাকারী, জেনারেটর ব্যবহারকারী এবং গ্রামীণ এলাকায় গৃহস্থালি কাজে পানি তোলার জন্য ডিজেল ব্যবহারকারীরাও সরকারের কর্মসূচির আওতায় মাইক্যাড ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধা নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় জ্বালানির সরবরাহ বর্তমানে স্থিতিশীল ও পর্যাপ্ত রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট চলমান থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা জোরদার করবে সরকার।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে টেকসই উপায়ে ভর্তুকি সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।