তেহরান: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, তারা সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যালুমিনিয়াম শিল্প স্থাপনায় আঘাত হেনেছে, যেগুলো মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (EMAL) এবং বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (ALBA) কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব স্থাপনা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। EMAL-এ বিশ্বের দীর্ঘতম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন লাইন রয়েছে, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৩ লাখ টন। অন্যদিকে ALBA-তে মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্প উৎপাদনে ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে তাদের প্রতিক্রিয়া আর ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, “যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে শত্রুর সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় আরও কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক আঘাত হানা হবে।”
এই হামলার দাবি এমন এক সময় এলো, যখন গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান অভিযোগ করে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় ইস্পাত কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
এর জবাবে আইআরজিসি জানায়, তারা ইতোমধ্যে ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ হামলার কোনো স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা ও পাল্টা হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।