লন্ডন: জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ দ্বিতীয় গাজা উপত্যকার চলমান মানবিক সংকটকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ২২তম মাসে গড়ালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আল হুসেইনিয়া প্রাসাদে একদল সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেন,
“গাজার জনগণের পাশে জর্ডান ছিল, আছে এবং থাকবে। তারা এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার তুলনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নেই।”
তিনি জর্ডানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন, যা গাজা সংকটের অবসান ঘটাতে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জার্মানি, কানাডা এবং অন্যান্য আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
“গাজার ভাই-বোনদের দুর্ভোগ আমাদের মানবতাবোধে আঘাত হানে — শুধু কাছের প্রতিবেশী বলে নয়, বরং এই দেশটি গঠিত হয়েছে সহানুভূতি ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নীতিতে,” তিনি বলেন।
বাদশাহ আব্দুল্লাহ আরও বলেন,
“আমরা জানি, আমাদের চেষ্টা কখনোই গাজার প্রতিদিনকার ভয়াবহ বাস্তবতার সমতুল্য হতে পারে না — যখন পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, শিশুদের অনাহারে দিন কাটছে। তবে আমরা যা কিছু পারি, তা করছি এবং ভবিষ্যতেও নিরবিচারে করে যাব।”
পেট্রা বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, জর্ডান ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক পাঠিয়েছে এবং যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই বিমানপথে ত্রাণ সরবরাহ শুরু করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দিককার মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি।
জর্ডান দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের অধিকার, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদার নীতির অবসানের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। বাদশাহ আব্দুল্লাহ বারবার সতর্ক করেছেন যে, গাজায় চলমান সহিংসতা শুধু ফিলিস্তিনিদের জীবন নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক মানবতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।