মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বুধবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু এবং থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায়মন্ত্রী সুরিয়া জুংরুংরেংকিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লাদা ফুমাস, থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ভিনারোজ সুপসংসুকসহ দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় মালয়েশিয়া কয়েকটি অমীমাংসিত বাণিজ্যিক বিষয় তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল মালয়েশিয়ার চিংড়ি রপ্তানিতে থাইল্যান্ডের বিধিনিষেধ, মালয়েশীয় সিবাস মাছ রপ্তানিতে কঠোর পরিদর্শন এবং ২০২৪ সাল থেকে ঝুলে থাকা প্রাণিজ পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত আবেদন।
একই সঙ্গে থাইল্যান্ড থেকে পাঁচ ধরনের চিংড়ি আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করে মালয়েশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জৈবনিরাপত্তা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারিগরি মূল্যায়ন ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর মধ্যে সরেজমিন মূল্যায়ন, আমদানি শর্ত নিয়ে কারিগরি আলোচনা এবং স্বাস্থ্য সনদ–সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে মালয়েশিয়া থাইল্যান্ডকে আসিয়ান র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কৃষিপণ্য বাণিজ্য সহজ করার আহ্বান জানায়। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস ও চীনের মধ্যে সংযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার কৃষিপণ্য, যেমন ডুরিয়ান, চীনের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে থাইল্যান্ডের কৃষি বিভাগের বিশেষ অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
দুই দেশই কৃষি ও কৃষিভিত্তিক খাদ্য খাতে কারিগরি সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক খাদ্যপণ্যের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত। থাইল্যান্ডে মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে কফি, কোকো, চা, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়ার আমদানির বড় অংশজুড়ে রয়েছে মাংস ও মাংসভিত্তিক পণ্য।
বৈঠকের শেষে মোহাম্মদ সাবু থাইল্যান্ডকে আগামী ২৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ‘মালয়েশিয়া অ্যাগ্রিকালচার, হর্টিকালচার অ্যান্ড অ্যাগ্রোট্যুরিজম এক্সিবিশন (মাহা) ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।