কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অসামান্য অর্জন, নেতৃত্ব এবং সমাজে অবদানের স্বীকৃতি দিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস মালয়েশিয়া ২০২৬”। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (ডুয়াম)।
শনিবার কুয়ালালামপুরের এসএসইউ ক্লাব আমানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা, গবেষণা, নারী ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কমিউনিটি নেতা, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা, সৃজনশীলতা, পেশাগত উৎকর্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ বছর বিশ্বের শীর্ষ ১ থেকে ২ শতাংশ সর্বাধিক উদ্ধৃত হইলি সাইটেড বিজ্ঞানী ও গবেষকদেরও সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী । তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য উদযাপনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডুয়ামের সভাপতি ও আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সুরাইয়া ইয়াসমিন নাহার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা শিক্ষা, গবেষণা, পেশা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এই অবদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই ডুয়ামের এ উদ্যোগ।
ডুয়ামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর চৌধুরী আকাশ অ্যাওয়ার্ডের উদ্দেশ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
এদিকে, ডুয়ামের যুগ্ম সম্পাদক রেবেকা সুলতানা জেরিন সংগঠনের চলমান কার্যক্রম ও কমিউনিটি উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ নিজ আসাদুল্লাহ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জনকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের আয়োজনে চারটি বিভাগে মোট ২৪ জন কৃতী বাংলাদেশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স বিভাগে ৯ জন শিক্ষক ও গবেষক, স্টুডেন্ট এক্সিলেন্স বিভাগে ৯ জন শিক্ষার্থী, উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট বিভাগে ৪ জন নারী নেত্রী এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে ২ জন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব পুরস্কৃত হন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামসুল বাড়ি মোহাম্মদ তামরীন, আবিদীন আদমেই আদেয়াল , বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এবং দূতাবাস প্রধান প্রণব কুমার সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতারা।
ডুয়ামের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিকা ইসলাম অর্পা এবং আফসারা আয়েশা ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র, পারিবারিক অংশগ্রহণমূলক আয়োজন এবং নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো এ সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজন করে ডুয়াম। দ্বিতীয়বারের এ আয়োজন ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ‘বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস মালয়েশিয়া’ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি মেধা, নেতৃত্ব ও সামাজিক অবদানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
প্রবাসে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই উদ্যোগকে ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।