পুত্রজায়া: মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ বিশেষ অভিযানে মানবপাচার ও জাল নথি তৈরি চক্রের সাথে সম্পৃক্ত সিন্ডিকেট মাস্টারমাইন্ড সহ নয়জনকে আটক। দীর্ঘ ছয় মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনের এই অভিযান পরিচালিত হয় ।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, রাজধানীর ছয়টি স্থানে চালানো অভিযানে বিপুল পরিমাণ জালিয়াতি করা ইমিগ্রেশন নথি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ই-পাস, নিরাপত্তা স্টিকার এবং সংশ্লিষ্ট নথি, যা জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হতো।
অভিযানে ১১১টি বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট, ১০টি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ৩,৯৫০ রিঙ্গিত নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিক, একজন মালয়েশিয়ান পুরুষ এবং স্থায়ী বাসিন্দা ভিয়েতনামের এক নারী।
এই অভিযানে সহায়তা করেছে রয়েল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং ইনল্যান্ড রেভিনিউ বোর্ড অফ মালয়েশিয়া। সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় ব্যক্তি ও ভিয়েতনামের ওই নারী সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে মূল হোতা মাহেন্দ্রা জুং শাহ ওরফে “এমজে”-কে কুয়ালালামপুরের জালান গ্যালোওয়েতে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি নিসান সেন্ট্রা গাড়িতে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে আটক করা হয়।
৪৩ বছর বয়সী এই নেপালি নাগরিক এর আগে ২০১৬ সালে বুকিত আমানের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বৈধ এক্সপ্যাট্রিয়েট পাস থাকলেও তিনি এই সিন্ডিকেটের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সিন্ডিকেটটি অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় এনে তাদের জন্য জাল ইমিগ্রেশন নথি তৈরি করত। প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হতো।
এই ঘটনায় ইমিগ্রেশন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।