মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সুলতান শরাফউদ্দিন ইদ্রিস শাহ এলআরটি৩ (লাইট রেল ট্রানজিট–৩) প্রকল্প বাস্তবায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির পরিধি কমিয়ে দেওয়ার জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী লিম গুয়ান ইং ও ডিএপির সাবেক সংসদ সদস্য টনি পুয়াকে সমালোচনা করেছেন।
শাহ আলম এলআরটি৩ লাইন উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া এক রাজকীয় বক্তব্যে সুলতান বলেন, ক্লাং, শাহ আলম ও কুয়ালালামপুরকে রেল যোগাযোগে যুক্ত করার প্রস্তাব তিনি ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দিয়েছিলেন। সে সময় বহু বাসিন্দা, বিশেষ করে গৃহিণীরা, পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার অভিযোগ জানিয়ে তাঁর কাছে চিঠি পাঠাতেন।
সুলতান জানান, তখন ক্লাং এলাকায় সুংগাই ক্লাং নদী পারাপারের জন্য মাত্র দুটি সেতু ছিল, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজিব সরকার ২০১৮ সালে বাতু তিগা ও সুংগাই রাসাউ টোল প্লাজা বাতিল করে।
তবে ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এলআরটি৩ প্রকল্প প্রায় ১৮ মাস বিলম্বিত হয়। পরে কোভিড–১৯ মহামারির কারণে আরও ১৯ মাস পিছিয়ে যায়।
সুলতানের ভাষ্য অনুযায়ী, লিম গুয়ান ইংয়ের নেতৃত্বাধীন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং তাঁর উপদেষ্টা টনি পুয়া প্রকল্পটিকে ‘মেগা প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, “এটি মর্যাদা প্রদর্শনের কোনো মেগা প্রকল্প ছিল না। এটি ছিল জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণের জন্য নেওয়া একটি প্রকল্প।”
সুলতানের দাবি, ওই সিদ্ধান্তের ফলে স্টেশনগুলোর আকার ছোট করা হয়, ট্রেনের বগি সংখ্যা কমানো হয় এবং প্রস্তাবিত পাঁচটি স্টেশন বাতিল করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আনোয়ার ইব্রাহিম বাতিল হওয়া পাঁচটি স্টেশন পুনর্বহাল করেন এবং স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে সম্মতি দেন বলে জানান সুলতান।
তিনি আনোয়ারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা যেন না থাকে, সে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
সুলতান আশা প্রকাশ করেন, এলআরটি৩ চালু হলে যানজট কমবে, দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং কুয়ালালামপুর, পেতালিং জয়া, শাহ আলম ও ক্লাংয়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে তিনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রসারানাকে রেললাইনটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে সুলতান বলেন, এই প্রকল্পের কৃতিত্ব এককভাবে কেউ নিতে পারে না। এটি জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন সরকারের পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।