কুয়েত সিটি: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে এই পদক্ষেপটি গৃহীত হয়েছে, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রস্তাবটি ২১৫–২০৮ ভোটে পাস হয়, যেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের চারজন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। যদিও এটি মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ, তবে এটি প্রেসিডেন্টের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটরা একে “অজনপ্রিয় ও অবৈধ যুদ্ধ” বন্ধের আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় “কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি”, তবে ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি সপ্তাহান্তেই সম্ভব হতে পারে।”
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। দুই পক্ষই পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে বলেন, আলোচনার মূল বিষয় হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে এই উপাদান হস্তান্তর করতে হবে এবং পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে, তবে ইসরায়েল যদি বৈরুতের ওপর হামলা বাড়ায়, তাহলে পরিস্থিতি “পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে” রূপ নিতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে কুয়েতে একটি বড় ঘটনা ঘটে, যেখানে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হন। কুয়েত কর্তৃপক্ষ এটিকে “ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানায়।
তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এই হামলার দায় অস্বীকার করে দাবি করেছে, এটি ছিল মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির ফল।
এই উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবানন মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও সীমান্তে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক সংঘর্ষ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।