কুয়ালালামপুর, ১৫ এপ্রিল : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে উন্মুক্ত নীতির ঘোষণা এবং শ্রমিক প্রবাহ বৃদ্ধির পর আবারও হুন্ডি (অবৈধ অর্থ স্থানান্তর) চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন প্রবাসী-ঘন এলাকায়, বিশেষ করে মিনি ঢাকা কোটারায়া ও মসজিদ ইন্ডিয়া, হ্যাংটুয়া,কেলাং , পেনাং এলাকায়, পাশাপাশি সেলাঙ্গর ও জোহরসহ বিভিন্ন রাজ্যের কিছু বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও অবৈধ অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, এসব চক্র প্রবাসী শ্রমিক ও কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে দ্রুত এবং সহজ লেনদেনের প্রলোভন দেখিয়ে বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এড়াতে উৎসাহিত করছে। এতে বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
একাধিক প্রবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র তুলনামূলক বেশি রেট ও দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধার কথা বলে তাদের ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হুন্ডি ব্যবস্থার বিস্তার হলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তারা আরও বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর নজরদারি এবং বৈধ মানি ট্রান্সফার ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা গেলে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।