তেহরান: চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং “স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান” নিশ্চিত না হলে ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে।
রোববার মার্কিন টেলিভিশন এনবিসি নিউজের “মিট দা প্রেস” অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। আরাঘচি জানান, গত বছর ১২ দিনের সংঘাতের পর যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা পরে ভেঙে যায়। তাই আবারও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, “একবার যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং তা ভেঙে গেছে। এখন আবার যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, এভাবে চলতে পারে না। যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
আরাঘচি আরও বলেন, ইরানের জনগণ ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
“যতক্ষণ না স্থায়ীভাবে এই আগ্রাসনের অবসান হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিকে, সম্প্রতি ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে এই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” ঘোষণা করা। তবে এ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আরাঘচি।
তিনি বলেন, অতীতেও একই ধরনের দাবি তোলা হয়েছিল, কিন্তু এমন শর্ত কখনও কাজ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
“ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না,” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন।
সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাঘচি সরাসরি নিশ্চিত করেননি যে রুশিয়া ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য দিচ্ছে কিনা। তবে তিনি বলেন, তেহরান ও মস্কোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।
তিনি বলেন, “তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই। ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতা নতুন কিছু নয় এবং এটি কোনো গোপন বিষয়ও নয়।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। ইরান জানায়, ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা Ayatollah Seyyed Ali Khamenei সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।